হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইসলামের মৌলিক শিক্ষায় ব্যক্তিগত, ইবাদতসংক্রান্ত ও সামাজিক সব বিধানই একটি মৌলিক ও কৌশলগত লক্ষ্যকে সামনে রেখে নির্ধারিত হয়েছে। আর তা হলো—মানুষ ও সমাজকে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত করে ‘হায়াতে তাইয়্যেবা’-এর বাস্তবতায় পৌঁছে দেওয়া।
হায়াতে তাইয়্যেবা অর্জন
ইসলামের দৃষ্টিতে সবকিছুই মানুষকে গড়ে তোলা ও তার বিকাশ সাধনের জন্য। নামাজ, রোজা, ফরজ, মুস্তাহাব, গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিধান—সবকিছুরই একটি চূড়ান্ত লক্ষ্য রয়েছে; আর তা হলো হায়াতে তাইয়্যেবা অর্জন।
হায়াতে তাইয়্যেবা বলতে শুধু বেঁচে থাকাকে বোঝায় না; বরং এমনভাবে জীবনযাপন করাকে বোঝায়, যেখানে মানুষ প্রকৃত অর্থে জীবনকে উপলব্ধি করতে পারে। এমন জীবনে মানুষের আত্মা ও শরীর প্রশান্ত থাকে, দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই কল্যাণময় হয় এবং সে পশুসুলভ প্রবৃত্তির স্তর অতিক্রম করে উচ্চতর মানবিক মর্যাদায় উন্নীত হয়। মানুষ যদি নিজের ইচ্ছা ও স্বাধীনতার মাধ্যমে আল্লাহর প্রদর্শিত প্রশিক্ষণের পথ বেছে নেয়, তাহলে তার অস্তিত্বে এই পবিত্র ও মূল্যবান জীবন গড়ে ওঠে এবং এর ইতিবাচক প্রভাব তার চারপাশের পরিবেশেও পড়ে। পক্ষান্তরে, মানুষ যদি নিজেকে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছেড়ে দেয় এবং প্রবৃত্তি ও কামনা-বাসনার অনুসরণ করে, তাহলে সে পশুসুলভ প্রবৃত্তির স্তরেই থেকে যায়; এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছু প্রাণীর চেয়েও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
পবিত্র কোরআন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, ঈমানদার ও সৎকর্মশীল মানুষ হায়াতে তাইয়্যেবা লাভ করবে। কিন্তু হায়াতে তাইয়্যেবা বলতে কী বোঝায়? এর অর্থ এমন একটি জীবন, যেখানে মানসিক প্রশান্তি, নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য, মর্যাদা, স্বাধীনতা, অগ্রগতি, উত্তম নৈতিকতা, ক্ষমাশীলতা, ধৈর্য ও আশাবাদ বিদ্যমান থাকে। অর্থাৎ ব্যক্তি যেমন সুখী ও কল্যাণময় জীবন লাভ করবে, তেমনি সমাজও হবে সুস্থ ও সফল।
হায়াতে তাইয়্যেবা শুধু বস্তুগত স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বুদ্ধিবৃত্তিক ও জ্ঞানগত বিকাশ, মানসিক প্রশান্তি, নিরাপত্তা, স্বস্তি, আনন্দ, অগ্রগতি এবং সর্বোপরি আধ্যাত্মিক উন্নতি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জন—সবই এই কাঙ্ক্ষিত জীবনব্যবস্থার বিভিন্ন দিক।
সূত্র: ‘আয়াতুল্লাহ শহীদের চিন্তাধারায় শিশুর প্রতিপালক গ্রন্থ
আপনার কমেন্ট